Ad Code

Responsive Advertisement

বার্সেলোনার দুঃসংবাদ যেন শেষ হচ্ছে না


বার্সেলোনার দুঃসংবাদ যেন শেষ হচ্ছে না

বার্সেলোনার এই মৌসুমের অর্ধেক বাকি আছে, এমন অবস্থাতেই লা লিগা জেতার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়েছে দলটি। আগের সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে "স্প্যানিশ সুপার কাপের" সেমিফাইনালে হেরেছে বার্সেলোনা। আর কাল রাতে শেষ ষোলোতে অ্যাথলেটিক বিলবাওর কাছে হেরে বাদ পড়েযায় কোপা দেল রে থেকে। এখন বার্সেলোনার দলটির এই মৌসুমে কিছু জেতার আশাটা শুধু ইউরোপা লিগ ঘিরেই।


বার্সেলোনার দুঃসংবাদ এখাও শেষ হয়নি। গত সপ্তাহেই ইনজুরি থেকে ফিরে আশা আনসু ফাতিকে মাঠে নামিয়েছিলেন বার্সেলোনা। গত কালও দলের জন্য নামানো হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ইনজুরি হয় আনসু ফাতি। কান্নাভেজা চোখে মাঠ থাকে বেরহন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

গতকাল বিলবাওয়ের বিপক্ষে মূল একাদশে জায়গা পাননি আনসু ফাতি। এক ঘণ্টা পর তাঁকে মাঠে নামিয়েছে। একাডেমির ফেরান জাগলার বদলে নামানো হয় ফাতিকে। কিন্তু ৯৬ মিনিটে হঠাৎ মাঠ থাকে বের হতে দেখা যায় তাঁকে। প্রাথমিকভাবে ঊরুতে আঘাত পেয়েছেন বলেই মনে হয়েছে। এ সময় কাঁদতে কাঁদতে মাঠ থেকে বের হয়ে যান ফাতি। আঘাত যে গুরুতর, সেটা ভালো ভাব বোঝা গেছে যখন ডাগআউটে না গিয়ে, সে সরাসরি টানেলে চলে যান বার্সেলোনার নতুন "নাম্বার টেন" আনসু ফাতি।


ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার কোচ জাভি এ ব্যাপারে বলেছেন, আগামীকাল এ ব্যাপারটি দেখব। সে আঘাত পেয়েছে কিন্তু কালকে জানতে পারব কী অবস্থা। ফাতির সঙ্গে জর্দি আলবা, পেদ্রিও এবং জেরার্দ পিকে কিছুটা  আঘাত  পেয়েছেন ম্যাচে। বার্সেলোনা পরে টুইট করে ফাতি কোথায়  আঘাত পেয়েছেন, সেটা নিশ্চিত করেছে, আনসু ফাতি বাঁ ঊরুর পেছনের পেশিতে আঘাত পেয়েছেন। আঘাত কতটা গুরুতর, সেটা জানতে আরও বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করতে হবে।


স্প্যানিশ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানা গেছে যে, আর ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগবে এই আঘাত থেকে সুস্থ হতে। ফাতির আঘাতের ইতিহাসও বার্সেলোনাকে স্বস্তি দিচ্ছে না। ২০১৯–২০ মৌসুমে আবির্ভাবে চমকে দেওয়া ফাতি যে এখন আঘাতের সঙ্গেই যুদ্ধ করে চলেছেন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল ফাতির। ১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পেশাদার ফুটব খেলা প্রথম গোলও করেছিলেন ফাতি। বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা সে মৌসুমে আলো ছড়িয়ে স্পেন জাতীয় দলেও নিজের জায়গা করে নেন ফাতি।

পরের মৌসুমটাও শুরু করেছিল দুর্দান্ত। সে প্রথম ম্যাচেই ২ গোল করে। এল ক্লাসিকোর ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে যান অক্টোবরের মধ্যেই। কিন্তু তার যত সমস্যার শুরু হয় নভেম্বর থেকে। গোড়ালিতে আঘাত পেলেন, তাতে পুরো মৌসুমটাই না খেলে শেষ হয়ে গেল তাঁর। আঘাত থেকে ফিরতে ফিরতে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাঠে দেখা যায় তাকে।


তত দিনে অনেক কিছু বদলে যায় বার্সেলোনার। মেসি বার্সেলোনা ছেড়েযায়, তাঁর বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি ফাতির পিঠে আসে। আঘাত কাটিয়ে ফাতি মাঠে ফেরেন ২৬ সেপ্টেম্বর, লেভান্তের বিপক্ষে তিনি ম্যাচে। ম্যাচের শেষ ৯ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই এক গোল করে সমর্থকদের মেসির চলে যাওয়ার কষ্ট কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল । কিন্তু এক মাস পর আবার আঘাত পান ফাতি। পুরোনো গোড়ালির সমস্যা কাটিয়ে এক সপ্তাহ পর খেলায়  ফিরেই গোল করেছিলেন। কিন্তু তাড়াহুড়া করে ফেরার মাশুল দিলেন হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পেয়ে। আবার দুই মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় ফাতি কে।

Post a Comment

0 Comments

Ad Code

Responsive Advertisement